রোমাঞ্চকর ম্যাচে খুলনাকে হারিয়ে রংপুরের টানা সপ্তম জয়

 বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫ (বিপিএল) সবসময়ই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। গতকাল বিপিএলের ২০তম ম্যাচে রংপুর রাইডার্স ও খুলনা টাইগার্সের মধ্যে লড়াই দেখালো এক অসাধারণ ম্যাচের নমুনা। রংপুরের অসাধারণ দলগত পারফর্ম্যান্স এবং খুলনার শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতা ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জয় করেছে।

রোমাঞ্চকর ম্যাচে রংপুরের জয়

টস ও ম্যাচের শুরুতে উত্তেজনা

ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় রংপুর রাইডার্স। যদিও দলটি প্রথমে ধীরগতিতে শুরু করে, তবে ব্যাটিং অর্ডারের মাঝপথে খুশদিল শাহ ও ইফতিখার আহমেদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলকে বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে নেয়। বিপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় টানা ছন্দে থাকা রংপুর দলের জন্য এটি ছিল আত্মবিশ্বাসী শুরু।

রংপুরের ইনিংসে খুশদিল ও ইফতিখারের প্রভাব

ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারে রংপুর তুলেছিল মাত্র ৬৮ রান। দুই ওপেনার স্টিভেন টেলর এবং তৌফিক খান ভালো শুরু করলেও বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন। তবে পাকিস্তানের দুই তারকা ব্যাটার খুশদিল শাহ ও ইফতিখার আহমেদ দলের হাল ধরেন। খুশদিল তার মারকুটে ব্যাটিং দিয়ে ২২ বলে ফিফটি তুলে নেন। বিশেষ করে নাসুম আহমেদের এক ওভারে টানা চারটি ছক্কা ম্যাচে নতুন উত্তেজনা নিয়ে আসে। খুশদিল ৩৫ বলে অপরাজিত ৭৩ রান করেন, যেখানে ইফতিখার করেন ৪৩ রান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে রংপুর সংগ্রহ করে ১৮৬ রান, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রতিযোগিতামূলক স্কোর।

খুলনার দারুণ শুরু ও মিরাজের ঝলক

১৮৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনা টাইগার্সের শুরুটা ছিল আগ্রাসী। দারউইন রাসোলি দ্বিতীয় ওভারে তিনটি বাউন্ডারি মেরে দলকে উজ্জীবিত করেন। তবে রংপুরের পেসার আকিফ জাভেদ তাকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন। এরপর মেহেদি হাসান মিরাজ দলের হয়ে ব্যাটিংয়ে নেতৃত্ব দেন। পাওয়ার প্লেতে দুই ছক্কা ও তিনটি চারের সাহায্যে মিরাজ দ্রুত রান তুলতে থাকেন।

মিরাজের ইনিংসটি ২৪ বলে ৩৯ রানের হলেও তা দলের জন্য ভালো ভিত্তি গড়ে দেয়। অন্যপ্রান্তে নাইম শেখের ধীর ব্যাটিং প্রথম দিকে চাপে ফেললেও, তিনি পরে ছন্দ ফিরে পেয়ে ৩৬ বলে ফিফটি করেন। নাইমের ইনিংসে ছিল একটি ছক্কা ও পাঁচটি চারের মার। কিন্তু শেখ মাহেদি হাসানের বলে ৫৮ রান করে আউট হওয়ার পর খুলনার ইনিংসে ছন্দপতন ঘটে।

আফিফ ও অঙ্কনের চেষ্টা, কিন্তু ব্যর্থতা

খুলনার মিডল অর্ডারে আফিফ হোসেন ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। তার স্ট্রাইক রেট ছিল প্রায় ২০০। অঙ্কনের তিনটি বাউন্ডারি ও আফিফের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং খুলনার জন্য আশা জাগিয়েছিল। তবে মাহেদি হাসান ও আকিফ জাভেদের দারুণ বোলিংয়ের কাছে তারা হার মানে। আকিফ তার শেষ ওভারে অঙ্কন ও ইমরুল কায়েসকে আউট করে ম্যাচটি রংপুরের দিকে টেনে নেন। শেষ ওভারে খুলনার প্রয়োজন ছিল ১২ রান, কিন্তু মোহাম্মদ নাওয়াজ ও অন্যান্য ব্যাটার সাইফউদ্দিনের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেননি।

আকিফ ও সাইফউদ্দিনের বোলিং প্রদর্শনী

রংপুরের জয় নিশ্চিত করতে মূল ভূমিকা রাখেন বোলাররা। আকিফ জাভেদ তার ৪ ওভারে মাত্র ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। অন্যদিকে ডেথ ওভারে সাইফউদ্দিনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ছিল অনবদ্য। তিনি ৩ উইকেট শিকার করেন এবং শেষ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এমন একটি বোলিং পারফরম্যান্স বিপিএলের ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে।

রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা

শেষ ২ ওভারে খুলনার প্রয়োজন ছিল ১৫ রান, হাতে ছিল ৪ উইকেট। কিন্তু রংপুরের বোলাররা অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখান। মাহেদি হাসান মাত্র ৩ রান দিয়ে আফিফকে আউট করেন এবং পরের ওভারেও আকিফ জাভেদ দুই উইকেট তুলে নেন। এভাবে খুলনার জন্য জয়ের পথ আরও কঠিন হয়ে যায়। সাইফউদ্দিন শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ম্যাচের ফলাফল রংপুরের পক্ষে নিশ্চিত করেন।

টানা সপ্তম জয়ে রংপুরের উল্লাস

এই জয়ের মাধ্যমে রংপুর রাইডার্স বিপিএলে তাদের টানা সপ্তম জয় তুলে নিল। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই তারা নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলেও তারা সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, খুলনার জন্য এই ম্যাচটি ছিল আরও একটি হতাশাজনক হার, যেখানে জয়ের সুবাস পেয়েও তারা হাতছাড়া করেছে।

রোমাঞ্চকর ম্যাচে রংপুরের জয়

প্রশ্নোত্তর

রংপুর রাইডার্স এই ম্যাচে কত রানে জয় পেয়েছে?
রংপুর রাইডার্স খুলনা টাইগার্সকে ৮ রানে হারিয়েছে।

খুশদিল শাহ কয় রান করেছেন?
খুশদিল শাহ ৩৫ বলে অপরাজিত ৭৩ রান করেছেন।

রংপুরের সেরা বোলার কে ছিলেন?
আকিফ জাভেদ ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের সেরা বোলার ছিলেন।

খুলনার হয়ে সবচেয়ে সফল ব্যাটার কে ছিলেন?
খুলনার হয়ে আফিফ হোসেন ছিলেন সবচেয়ে সফল, যিনি ২০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন।

শেষ ২ ওভারে খুলনার প্রয়োজন ছিল কত রান?
শেষ ২ ওভারে খুলনার প্রয়োজন ছিল ১৫ রান।

রংপুর রাইডার্স এখন পয়েন্ট টেবিলের কোথায় অবস্থান করছে?
রংপুর রাইডার্স বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে।

উপসংহার

বিপিএলের প্রতিটি ম্যাচই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নতুন উত্তেজনা নিয়ে আসে। এই ম্যাচটিও তার ব্যতিক্রম নয়। রংপুর রাইডার্সের টানা সপ্তম জয় তাদের দলগত শক্তির প্রমাণ দেয়। বিপিএলের পরবর্তী ধাপগুলোতে দলটি আরও কেমন পারফর্ম করে, তা দেখার জন্য ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে, খুলনার জন্য এখন পুনর্মূল্যায়নের সময়।

নবীনতর পূর্বতন